১.
মিরপুরের দক্ষিণ বিশিল মসজিদ সংলগ্ন ৭ তলাবিশিষ্ট বিলাসবহুল একটি ভবনের নীচতলায় অগণিত মানুষের জটলা দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম নিথর একটি দেহ পড়ে আছে শতাধিক মানুষের ভীড়ে। আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধবসহ অসংখ্য মানুষ ঘিরে আছে লাশটিকে। কান্নার রোল উঠেছে বিশাল এই বাড়ীজুড়ে ।
ফ্লাইট মিস হওয়ার ভয়ে বিমানে যাত্রীরা যেমন টিকেট উলট-পালট করে বারবার দেখে ঠিক সেভাবেই স্বজনরা শেষ বারের মতো মুখের কাপড় সরিয়ে দেখে নিচ্ছে অনন্তকালের জন্য না ফেরার দেশে যাত্রা করা অফেরতযোগ্য এই যাত্রীকে। কৌতূহল থেকে জানার চেষ্টা করলাম মৃত মানুষটির পরিচয়। অবাক হলাম, যেই বাড়ির গ্যারেজে আজ এই মৃত ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে, সেই বাড়িটি তারই জীবনযুদ্ধের পরিশ্রমের ফসল। অথচ, এই সবকিছু ফেলে আজ সে একেবারে শুন্য হাতে যাত্রা করেছে অজানার উদ্দেশ্যে। যেখান থেকে ফেরার ফুরসত নেই একটুও।
২.
মিলেমিশে চলার মানসিকতার কারণে সবসময় প্রতিবেশি মানুষগুলোর খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করি। অহংকার ব্যতিরেকে নিজে থেকেই আগ্রহের সাথে পরিচিত হই। বরাবরের মতো এবারও এমনটিই করলাম। ৪/৫ মিনিটের দূরত্বে একটি ক্যাডেট মাদরাসা আছে। মারওয়াহ’র অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। উপরোক্ত কারণে হযরত মুহতামিম সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ লাভের উদ্দেশ্যে একাধারে তিনদিন গিয়ে মাদরাসার গেট থেকে ফিরে আসলাম। প্রবেশের সুযোগ নেই। যেনো কোনো গোপন আস্তানা। চতুর্থবারের মতো আজ চিন্তা করলাম সাক্ষাৎ করবোই। অনেক ধরনের কৈফিয়ত দিয়ে ঢুকলাম মাদরাসা-অফিসে। আধুনিক উপায়ে সজ্জিত এই অফিসে প্রবেশ করে কারও কোনো সাড়া পেলাম না। নিজে থেকেই চাকুরী প্রার্থীর মতো হাত বাড়িয়ে দিলাম ডেস্ক আর কম্পিউটার নিয়ে বসা সম্মানিত ভাইস প্রিন্সিপাল স্যারকে। আমার দিকে না তাকিয়ে মোবাইলে মনোযোগ দিয়েই মুসাফাহা করলেন সম্মানিত এই মোবাইল অপারেটর। এরপর আরও ৩০ মিনিট চলে গেলেও একবার ফিরে তাকানোর প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। নিজে থেকেই কয়েকবার চেষ্টা করলাম অফিসে দায়িত্বরত কয়েকজনকে বলে প্রিন্সিপাল স্যারের সাক্ষাতের অনুমতি নেয়ার জন্য । কিন্তু, ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! ১ঘণ্টা বসে থেকেও হযরত মুহতামিম সাহেবের সাক্ষাত পেলাম না। সবশেষে আবার কোনোদিন সুযোগ পেলে যাবো বলে রিসিপশন ডেস্ক থেকেই বিদায় নিয়ে আসলাম। মুহতামিম সাহেবের সাক্ষাত আর আমার কপালে জুটল না।
প্রিয় পাঠক, দু'টি ঘটনা মিলিয়ে একটু ভেবে দেখুনতো এই দম্ভ-অহংকার এর শেষ পরিণতি কী ? এটাই কি ছিলো তায়েফের মাটিতে উম্মতের জন্য নির্যাতিত মানবতার মুক্তির দূত রাসুল সা. এর আদর্শ? বিনয়-নম্রতা এগুলো কি তবে উৎবা, শায়বা আর আবু জাহেলদের বৈশিষ্ট্য ছিলো? আমার, আপনার, সবার শেষ পরিণাম যদি হয় ওই বাড়িওয়ালার মতো, তবে কিসের এতো অহংকার কিসের এতো দাম্ভিকতা?
আপনার আসল পরিচয়তো ২৪ ঘণ্টা নিকৃষ্ট কয়েক কিলো অপবিত্র ময়লার ফেরিওয়ালা!
মাঈনুদ্দীন ওয়াদুদ , খাদেম: মাদরাসাতুল মারওয়াহ, মিরপুর-১,ঢাকা। ১২১৬।

0 মন্তব্যসমূহ