সৈয়দ শামছুল হুদা ➤
![]() |
| প্রচ্ছদ : কাজী হাসানুল বান্না |
শহিদ ওমর ফারুক (রহ.) পাহাড়ের বুকে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার নিবেদিতপ্রাণ একজন ছোট্ট দাঈ। নিজের জায়গার ওপর নিজেই একটি মসজিদ প্রতিদিনের পাঁচওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য তৈরি করেছিলেন। ভাঙ্গাচুরা ঘর, কোনোরকম দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটি খুপড়ি। কিন্তু ইসলামবিদ্বেষী পাহাড়ি অপশক্তি এতোটুকুও সহ্য করতে পারছে না। অথচ একটি স্বাধীন মুসলিম দেশে পাহাড়ের কিনারে কিনারে খ্রিস্টান মিশনারিরা যুগের পর যুগ খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের কাজ করে যাচ্ছে। বিনা বাঁধায় তারা গোটা পাহাড়ে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছে। নাগাল্যান্ড, মিজোরামের মতো একটি খ্রিষ্টরাজ্র প্রতিষ্ঠার পাশ্চাত্যের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সেখানে তারা কোটি কোটি অকাতরে ঢেলে যাচ্ছে।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ওমর ফারুক একজন নওমুসলিম ছিলেন। কোনো মুসলমানের দাওয়াতে তিনি ইসলামের মতো মহান দৌলত অর্জন করেছিলেন। তিনি কারো কাছে হাতও পাতেননি। আপন জায়গায়, আপন গণ্ডির ভেতর কিছু মেহনত করে যাচ্ছেন। হতভাগা কোটি মুসলমান মিলেও আমরা আমাদের এই ভাইটির পাশে দাঁড়াতে পারলাম না। তাকে আমরা আপন ভাবতে পারলাম না। দেশের মুসলিম অভিজাত পরিবারগুলোতে টাকা খরচ করার জায়গা নেই। অথচ যে ইসলামের কারণে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেলাম, সেই দেশে একজন নওমুসলিম জীবনের নিরাপত্তা পায় না। এর চেয়ে লজ্জার আর কী আছে?
যাদের ভেতর সামান্য উম্মাহ দরদ আছে, তাদের সেখানে যাওয়া উচিত। অন্তত ওমর ফারুক সাহেবের পরিবারের এই দুঃসময়ে তাঁর সন্তানদের মাথায় হাত বুলানো উচিত। দেশের সামর্থবানদের কাছে অনুরোধ করবো, আপনারা নিজে না যেতে পারলেও আপনার দু-একজন প্রতিনিধি পাঠান। তাকেসহ আশপাশের মুসলমানদের একটু সাহস দিন। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে বসে দ্রুত কীভাবে খুনি চক্রকে বিচারের আওতায় আনা যায়, তার উদ্যোগ নিন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ ভাইদের সাহায্য নিন। তাদের ভেতরও মুসলমানদের প্রতি দরদ আছে। সামাজিকভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন।
মনে রাখবেন, আজ যদি ওরা বিনা বাঁধায় পার পেয়ে যায়, তাহলে আগামী দিনে পাহাড়ি অঞ্চলে আর কোন নামাজি খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেউ নিজেকে মুসলমান পরিচয় দেওয়ার সাহস করবে না। আমরা আয়েশি জীবনযাপন করছি, ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দিচ্ছি, নফল নিয়ে মারামারি করছি, আর ওরা আমাদের অস্তিত্ব নিয়েই টান দিচ্ছে। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সামান্য দরদ থাকে, তাহলে বান্দরবানের এই ঘটনাকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। ক্ষুদ্র একটি কাফেলার সঙ্গে যাওয়ার আশা আছে, যদি আল্লাহ তৌফিক দেন।
সম্পাদক : নূরবিডি ডটকম


0 মন্তব্যসমূহ