তামাদ্দুন ডেস্ক : লালমনিরহাটের আদিতমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ভারত থেকে গরু আনার সময় তারা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৯ নভেম্বর) ভোর আড়াইটার দিকে আদিতমারীর মহিষতুলি সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ দুজন হলেন আয়নাল হক ও ওয়েস করনী। এদের মধ্যে আয়নাল আদিতমারী উপজেলার মহিষতুলি সীমান্ত এলাকার ঝারিজঝার গ্রামের মো. সাদেক আলীর ছেলে, আর ওয়েস করনী একই এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে।
সীমান্তে গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারীর ভেলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন লালমনিরহাট ১৫-বিজিবির নায়েক সুবেদার মো. সফিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার মহিষতুলি সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ভারতের মেইন ৯২১ এর ৬ নম্বর সাব পিলারের কাছে গরু আনতে যান। এ সময় বিএসএফের কৈমারী ক্যাম্পের টহল দল গুলি করলে ঘটনাস্থলেই আয়নাল হক ও ওয়াস করনী প্রাণ হারান। তখন সঙ্গীরা নিহত দুজনের মরদেহ নিয়ে পালিয়ে তাদের বাড়িতে রেখে আসেন।
আয়নাল হকের বাবা মো. সাদেক আলী বলেন, আমার ছেলে রাতে বাজার থেকে এসে খাওয়া-দাওয়া শেষে শুয়ে পড়ে। কিন্তু রাত ৩টার দিকে বাড়ির দরজায় কে যেন ধাক্কা দিচ্ছিল। তখন শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি আমার ছেলে মাটিতে পড়ে আছে। দেখি ওর ডান হাতের কবজির ওপর গুলির চিহ্ন।
ওয়েস করনীর বাবা ছানোয়ার হোসেন বলেন, রাতে আমার ছেলের মাথায় গুলি করে মেরেছে বিএসএফ। আমি কার কাছে বিচার চাইবো?
ভেলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, মহিষতুলি এলাকার দুইজনকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে। পুলিশও ঘটনাস্থলে এসেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুল ইসলাম বলেন, দুইজন গুলিতে মারা গেছেন জানতে পেরে আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি তদন্তাধীন বিষয়, তদন্তে জানা যাবে কী হয়েছে। তবে তারা গুলিবিদ্ধ এটি নিশ্চিত।
বিজিবির লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-১৫) থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে প্রতিবাদলিপি প্রেরণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।


0 মন্তব্যসমূহ